শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৩ চৈত্র ১৪৩১
শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৩ চৈত্র ১৪৩১

প্রবীণ হিতৈষী সংঘের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

মো:মিজানুর রহমান (বিশেষ প্রতিনিধি) প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫, ১১:৩৬ পিএম | 32 বার পড়া হয়েছে
প্রবীণ হিতৈষী সংঘের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রবীণ হিতৈষী সংঘের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় আলোচনাসভা, বিশেষ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) উপজেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক এস এম কোবাদ আলীর সভাপতিত্বে ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার এস এম সিরাজুস সালেহীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরীফ উদ্দীন।

এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি সিরাজ উদ্দীন বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে প্রয়াত সহযাত্রীদের স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন বেনীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিল রশিদ, শৈলকুপা সিটি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোফাজ্জেল হোসেন,ব্রহ্মপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম ও শৈলকুপা সরকারী ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

র‍্যাবের মানবিক উদ্যোগে ঈদের জামা কেনা হবে কুষ্টিয়ার এতিম মাদ্রাসা ছাত্র আবদুল্লাহর

সকালের বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ৩:৫৯ এএম
র‍্যাবের মানবিক উদ্যোগে ঈদের জামা কেনা হবে কুষ্টিয়ার এতিম মাদ্রাসা ছাত্র আবদুল্লাহর

কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া গ্রামের দারুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের এক সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিক্ষার্থী ছোট্ট ছেলে শিশু আব্দুল্লাহ ইবনে সাফি। বাবা -মা থেকেও যেনো নেই তার কেউ। এতিম ওই মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল্লাহ কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার মির্জানগর এলাকার এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। গত ছয় মাস আগে এই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় রেখে গেছেন তার মা। তারপর কেটে গেছেন পুরো ছয় মাস। মায়ের সাথে আর দেখা হয়নি শিশু আব্দুল্লাহর। বর্তমানে আব্দুল্লাহর একমাত্র মাথাগোজার ঠাই এই মাদ্রাসা। পুরনো একটি পাঞ্জাবী ও পুরনো টুপি পরেই প্রতিদিন মক্তবে পড়তে বসতে হয় আব্দুল্লাহকে । পরনের পায়জামাটাও এক সহপাঠির কাছ থেকে নেওয়া। শুধু তাই নয় আব্দুল্লাহ চর্ম রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ অবস্থায় সে দিনপার করছে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থার খরচ চালানোর মত কেউ নেই। মাদ্রাসার খরচেই কোন রকম চলছে তার পড়ালেখা। ঈদে নতুন পোশাক দেওয়ার মত কেউ নাই তার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মিডিয়ায় এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয় আব্দুল্লাহর। যেখানে লেখা ছিলো এবারও ঈদের জামা কেনা হবে না আবদুল্লাহর। ভিডিওটি র‍্যাব হেড কোয়ার্টারের উর্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর হলে তার ঈদের পোশাক কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় র‍্যাব ফোর্স।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাতে র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে র‍্যাব-১২ সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার কামরুল ইসলাম সহ র‍্যাবের একটি টিম মিরপুরের কওমিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে পৌছায়। সেখানে এতিম মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল্লাহকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং তার ঈদের জন্য নতুন পোশাকের মাপ নিয়ে আসে। পরদিন তার ঈদের পোশাক পৌছিয়ে দেওয়া সহ তার সুস্থতার জন্য চিকিৎসার দায়িত্ব নেন র‍্যাব কুষ্টিয়া।

এবিষয়ে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার কামরুল ইসলাম জানান, র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে আমরা এতিম মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল্লাহকে সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেছি। তার ঈদের পোশাকের জন্য দর্জি দিয়ে মাপ নিয়ে আসা হয়েছে৷ আগামীকাল আমরা তার জন্য ঈদের পোশাক দিয়ে আসবো। এছাড়াও ছেলেটি অসুস্থ, রোগে আক্রান্ত তাই র‍্যাব কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার জন্য দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।

আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন

সকালের বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫, ৫:০৯ পিএম
আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর ও পলাতক আসামিদেরকে গ্রেফতারপূর্বক বিচার সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন জেলা স্কুলের প্রাক্তন, অধ্যয়নরত ছাত্র ও অভিভাবকবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে। আদালতের দেওয়া রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করা হলেও এখনো চারজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক। তাদের দ্রুত গ্রেফতার না করা বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলার প্রমাণ। বিশেষ করে মুনতাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার নজির।

এসময় মানববন্ধনে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ (বুলু), ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শামিম উল হাসান অপুসহ কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সেখানে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-নেত্রীর মদের আড্ডার ভিডিও ভাইরাল

মো:মিজানুর রহমান(বিশেষ প্রতিনিধি) প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫, ৯:৩৭ এএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-নেত্রীর মদের আড্ডার ভিডিও ভাইরাল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ জেলা শাখার সদস্যসচিব সাইদুর রহমান ও মুখপাত্র এলমা খাতুনের মদের আড্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টির পর তাদের পদ স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ মার্চ) বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হুরাইরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদ স্থগিতের কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে বিষয়টি তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ শাখার সদস্যসচিব সাইদুর রহমান ও মুখপাত্র এলমা খাতুনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি নিয়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

ভিডিওটির ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের। এতে দেখা যায়, এলমা খাতুন একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যাগটি খাটের ওপর রেখে বসেন। ওই খাটের পাশে শুয়ে ছিলেন সাইদুর রহমান। এরপর সাইদুর একটি কম্বল বিছিয়ে শুয়ে পড়েন। এলমা খাতুন ফোন ব্যবহার করতে থাকেন। তারপর একটি মদভর্তি বোতল হাতে নেন। হাতে কয়েকটি ওয়ান টাইম গ্লাসও দেখা যায়।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হুরাইরা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরালের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি তদন্তে ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ওই কক্ষে আরও অনেকে ছিল। তাদের মধ্য থেকে একজন ভিডিওটি ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এদিকে, ভিডিওটির বিষয়ে মুখপাত্র এলমা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে সদস্যসচিব সাইদুর রহমান বলেন, “গেল বছরের অক্টোবরে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ঢাকা গিয়েছিলাম। সেখানে আপুর হাতে কী ছিল, সেটা আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। কেউ শত্রুতাবশত এই কাজটি করেছে। আমাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে।”

এ বিষয়ে জেলা সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু বলেন, “ভিডিওটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে এটি খুবই দুঃখজনক। তাদের কাছ থেকে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে কেন, কী কারণে, কারা ভিডিওটি করেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সেটি খুঁজে বের করা জরুরি।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১০৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্যসচিব আরিফ সোহেল এই কমিটি অনুমোদন করেন। ছয় মাসের জন্য তাদের এই কমিটি অনুমোদন করা হয়।

এ কমিটিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু হুরাইরাকে আহ্বায়ক, কেসি কলেজের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমানকে সদস্যসচিব, সাজেদুর রহমানকে মুখ্য সংগঠক এবং ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী এলমা খাতুনকে মুখপাত্র করা হয়। এ ছাড়া ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৩ জন যুগ্ম সদস্যসচিব, ৯ জন সংগঠক ও ৬৪ জন সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।